৩১ মার্চের নিলামে যাচ্ছে সব অপারেটরই

২৬ মার্চ, ২০২২ ১০:১৮  
আগামী ৩১ মার্চ তরঙ্গ নিলাম ডেকেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাকে আলিঙ্গন করতে ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অকশন-২০২২’ নামে অভিহিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদিও শুরুতে নিলামটি ৫জি তরঙ্গ নিলাম হিসেবে প্রচারিত হওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিটক ছাড়া বাকি তিন অপারেটেই নিলামে অংশগ্রহণ নিয়ে ছিলো ধোঁয়াশায়। এই ধোঁয়াশর মধ্যে নিলামে সরকারি অপারেটর টেলিটকের অংশগ্রহণ নিয়ে চিঠি দিয়ে আপত্তি তুলেছিলো বেসরকারি তিন মোবাইল ফোন অপারেটর। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক আনুষ্ঠানিকভাবে বিটিআরসি-তে এই চিঠি দেয় বলে খবর আসার পর জানা গেলো শেষতক এতে চারটি মোবাইল কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। নিলামে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়ে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেছেন, বিধি অনুযায়ী অতি উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা বা ফাইভজি চালুর লক্ষ্যে এ নিলামের ব্যবস্থা করেছি। নিলামে অংশ নিতে অপারেটরগুলো ইতো মধ্যে টাকা জমা দিয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেল এ নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শুধু ফাইভজি নয়, ফোরজি সেবার মান বাড়াতেও কোনো কোনো অপারেটর বাড়তি তরঙ্গ কেনার ব্যবস্থাও থাকছে। https://digibanglatech.news/news/local/telecom/71035/ এ বিষয়ে মোবাইল অপারেটর রবি এবং বাংলালিংকের দু’জন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। নিলামে প্রতি মেগাহাটর্জ স্পেকট্রামের ফ্লোর প্রাইস বা বেইজ প্রাইস থাকছে ৬ মিলিয়ন ডলার, টাকার হিসাবে যা ৫১ কোটি ৯০ লাখের একটু বেশি। এতে স্পেকট্রাম ক্রয়কারীদের জন্য ফাইভজি সেবা চালু করতে ৬ মাসের তরঙ্গ রোলআউট অবলিগেশন দেয়া হয়েছে। নিলামের দিন হতে এই সময় ধরা হবে। মোট ১৮ ব্লকে হবে স্পেকট্রাম নিলাম। এরমধ্যে ২ দশমিক ৩ গিগাহার্টজ বা ২৩০০-২৪০০ মেগাহার্টজে ৬টি ব্লক এবং ২ দশমিক ৬ গিগাহার্টজে বা ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্টজে ১২ টি ব্লক রয়েছে। ২৩০০-২৪০০ মেগাহার্টজে প্রতি ব্লকে ১০ মেগাহার্টজ করে স্পেকট্রাম নিলাম হবে। ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্টজেও প্রতি ব্লকে ১০ মেগাহার্টজ করে স্পেকট্রাম উঠবে। নিলামে ‘বিড আর্নেস্ট মানি রাখা হয় ১০ কোটি টাকা যেখানে ২ মার্চের মধ্যে অপারেটরগুলোকে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিলো।। এছাড়া স্পেকট্রাম ক্রয়মূল্যের ১০ শতাংশ অর্থ নিলামের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিন হতে ৬০ দিনের মধ্যে দিতে ক্রেতাকে সেবা দেওয়ার শর্তও এতে যুক্ত ছিলো। আর অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ অর্থ ৯ বছরে সমান কিস্তিতে দেয়ার সুযোগ রয়েছে অপারেটরদের।  এই শর্তগুলো বিষয়ে গত ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের মতামত তুলে ধরার সময় পান অপারেটররা।  এরপর ১০ মার্চ নিলাম নিয়ে অপারেটরগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক করে বিটিআরসি। এর আগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ফাইভজি’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে তিনি এ প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন। ফাইভজি উদ্বোধন করায় অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শিগগির বাণিজ্যিকভাবে দেশে ফাইভজি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে দেশ ফাইভ-জির যুগে প্রবেশ করে। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের হাত ধরে বাংলাদেশে আনা হয় ফাইভজি। ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করতে টেলিটককে সহায়তা করছে হুয়াওয়ে ও নকিয়া। প্রথমে ছয়টি এলাকায় সীমিত পরিসরে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর সংস্থা টেলিটক রাজধানীর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধানমন্ডি ৩২, বাংলাদেশ সচিবালয়, সংসদ ভবন এবং সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা ও টুঙ্গিপাড়ায় ফাইভজি কভারেজের আওতায় আনছে। এছাড়া কিছু আইসিটি ও মোবাইল মেলায় ফাইভজি চালানোর ব্যবস্থা করা হয়।